প্রায় তিন মাস পর বিশ্বে আক্রান্তের চেয়ে সুস্থ বেশি


Corona #paperslife

গত ২৯ মে সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সোয়া লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এর পরের দুই দিন ধারাবাহিকভাবে নতুন রোগীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি আক্রান্তের চেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ সুস্থ হওয়ার খবর এসেছে এক দিন বাদেই।

৮৬ দিন পর গত রবিবার এক দিনে শনাক্ত হওয়া রোগীর চেয়ে সেরে উঠা ব্যক্তির সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। এর আগে সর্বশেষ এমনটি হয়েছিল ৪ মার্চ। সেদিন শনাক্ত হয় দুই হাজার ২৯৮ জন আর সুস্থ হয় দুই হাজার ৫৮০ জন। এর পর থেকেই সেরে উঠা ব্যক্তির চেয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছিল।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই চিত্র মিলেছে। গত ১০ দিনে বিশ্বে সেরে উঠা ও নতুন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত রবিবার এক দিনে এক লাখ আট হাজার ৭৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

একই সময়ে সুস্থ হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৪৫১ জন রোগী। আগের দিন ৩০ মে নতুন রোগী শনাক্ত হয় এক লাখ ২৪ হাজার ১০২ জন। সেদিন সেরে ওঠে ৭৮ হাজার ৩৯১ জন। এর আগের দিন ২৯ মে বিশ্বে রেকর্ড এক লাখ ২৫ হাজার ৪৭৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। ওই দিন সুস্থ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ৯০৬।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬৩ লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে পৌনে চার লাখ মানুষ। আর সুস্থ হয়েছে প্রায় পৌনে ২৯ লাখ করোনা রোগী।

বিশ্বে বর্তমানে ৫৪ হাজার রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, যা চিকিৎসাধীন লোকের ২ শতাংশ। ১০ দিন ধরে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা স্থিতিশীল আছে।

একইভাবে গত ৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সেরে উঠা ব্যক্তির চেয়ে নতুন করে অধিকসংখ্যক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। অবশ্য এর আগেও সুস্থ হওয়ার সংখ্যায় উল্লম্ফন ঘটেছে।

গত ২২ মে সুস্থ হয় প্রায় এক লাখ সাত হাজার জন। এর আগের ও পরের দিন এই সংখ্যা ৬০ হাজারেরও কম ছিল। ২৩ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত এক দিনে সুস্থ হওয়া লোকের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন ৫৫ হাজার, সর্বোচ্চ ৮৪ হাজার।

নভেল করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। করোনার নতুন কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালির পর এখন ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আর আক্রান্তের দিক দিয়ে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরই অবস্থান করছে ব্রাজিল (পাঁচ লাখ)।

এছাড়া পেরুতে গত রবিবার নতুন করে আট হাজার ৮০০ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। রোগীর সংখ্যার হিসাবে লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিলের পরই এখন পেরুর অবস্থান। পেরুতে করোনাভাইরাসে মারা গেছে চার হাজার ৫০৬ জন।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ চিলিতে গত রবিবার এক দিনে মারা গেছে আরো ৫৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৪।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলো শিথিল করা হচ্ছে। গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল ও পার্ক; যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বে রাশিয়া বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

গত রবিবার রাশিয়ায় নতুন করে আরো ৯ হাজার লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখ পাঁচ হাজার এবং মারা গেছে চার হাজার ৬০০ জন।

রোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য ভারতের রাজধানী দিল্লির সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এ ঘোষণা দেন। তবে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী ও সরকারি পাস থাকা ব্যক্তিরা যাতায়াত করতে পারবেন।