আমেরিকায় বিষণ্ণতার পরিমাণ বাড়ছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিক্স এবং ইউএস সেনসাস ব্যুরোর যৌথভাবে করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২৩ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যে, ২৩.৫% আমেরিকানই এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণায় নিপতিত হয়েছেন।
একই সংস্থা কর্তৃক জুনের ১১ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে পরিচালিত অনুরূপ জরিপে দেখা গেছে, মানসিক যন্ত্রণায় আক্রান্তের হার বেড়ে ২৫.১% হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে মাত্র ৬.৬% আমেরিকান মানসিক যন্ত্রণায় ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন।
কেবল করোনাভাইরাসের কারণে নয়, আর্থিক পরিস্থিতি কিংবা বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ ইত্যাদি কারণেও বহু আমেরিকান এক ধরনের মানসিক পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ২৫.৬% কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান বলেছেন যে, তারা খুবই অস্থিরতায় ভোগছেন। সবসময় ভীতি তাড়া করছে। এরপর জুনের ১১ থেকে ১৬ তারিখে একই প্রশ্নের জবাবে এই কৃষ্ণাঙ্গদের ২৮.৩% বলেছেন যে, তারা রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না। সবসময় মনে হয় যে, এই বুঝি কেউ হামলা করলো। পুলিশ দেখলেই ভয়ে পথ চলেন। স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না একাকী চলতেও।
আটলান্টার ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন’ তথা সিডিসির একজন চিকিৎসা-বিজ্ঞানী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমার মনে হয় এ নিয়ে কারোরই দ্বিধা নেই যে, বহুকাল পরে বড় ধরনের একটি মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে পড়েছেন আমেরিকানরা।
করোনায় আক্রান্ত হবার পর যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারাই অধিক হারে মানসিক যন্ত্রণাবোধ করছেন। ৪৯% বলেছেন যে, তারা পুনরায় আক্রান্ত হবার ভীতিতে রয়েছেন। ২৫% বলেছেন যে, তারা কোনভাবেই স্বাভাবিক হতে পারছেন না। ২০% বলেছেন যে, এক ধরনের মনোকষ্ট সবসময় তাড়া করছে। ৮% বলেছেন, নিজেকে একাকী লাগে।
এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিনামূল্যে নিউইয়র্কে ইমোশনাল সাপোর্ট হটলাইন (৮৪৪-৮৬৩-৯৩১৪ ) চালু করা হয়েছে মানসিক বিপর্যয়ে পড়াদের কাউন্সেলিংয়ের জন্যে।

