করোনা মোকাবেলায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা করতে হবে


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

করোনা আতঙ্কে স্থবির বিশ্বজুড়ে। এই মারণ ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রায় সব ধরণের চেষ্টা চালাচ্ছে গবেষকরা। তবে চলমান এই পরিস্থিতিতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে অবশ্যই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা সুষম হতে হবে। আমরা এখন অনেকেই না বুঝেই বিভিন্ন রকম ডায়েট করে থাকি।

তাতে শরীরের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়। সবসময় মনে রাখতে হবে প্রতিদিন আমাদের শরীরে সবগুলো খাদ্য উপাদান প্রয়োজন। আমরা কোন খাদ্যকে বাদ দিতে পারবো না আমাদের খাদ্যতালিকা থেকে।

সেক্ষেত্রে আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিবে। ফলে আমদের শরীর কোন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না। মনে রাখতে হবে একমাত্র পুষ্টিকর খাবারই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং আমাদের বেঁচে থাকাও এই খাবারের উপর।

তাই সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প কিছু নেই!

কীভাবে আমরা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবো, খুব সহজ করে কিছু নির্দেশনা দেয়া হল-

১. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার রাখুন। আপনার শরীরের ওজন উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি ঠিক করে, খাবার গ্রহণ করতে হবে।
খাবারে অবশ্যই শর্করা ( ভাত, রুটি, ব্রেড, নুডুলস, আলু ইত্যাদি), আমিষ ( মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি), ফ্যাট (যেকোনো তেল, দুধ, মাংস ইত্যাদি) , সবজি (সবুজ, হলুদ শাক সবজি) ও ফল রাখতে হবে।

২. প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রাখতে হবে। ভিটামিন সি ক্ষতিকর জীবাণুগুলির বিরুদ্ধে এপিথিলিয়াল প্রতিরোধব্যবস্থাকে দৃঢ় করে। এমনকি অণুজীবের ধ্বংস হারও বাড়িয়ে দেয়। যেমন পেয়ারা, আমলকি, কমলা, জাম্বুরা, সজনে পাতা, শাক, লেবু, কাঁচামরিচ ইত্যাদিতে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যাবে।

৩. প্রতিদিন রোদে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩ টা) ১৫-৩০ মিনিট বসতে হবে। এতে আপনার শরীর সূর্যের আলো নিয়ে কার্যকরী ভিটামিন ডি তৈরি করবে। যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। অনেক সময় অনেকের শরীরে এই কার্যকরী ভিটামিন ডি খুব কম থাকে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্টারি খেতে পারেন। মনে রাখবেন সূর্যের আলো ব্যাতিত ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে কার্যকর হবে না। মাছের তেল, ডিম ইত্যাদি ভিটামিন ডি থাকে।

৪. প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। খাবারের মধ্যে পানি না খেয়ে খাওয়ার আগে এবং পরে খাবেন। সকালে খালি পেটে পানি খেতে পারেন।

৫. প্রোবায়োটিক্স খেতে হবে প্রতিদিন। অনেকেই এর নাম হয়তো জানেন না। এটি একটি ভালো ব্যাকটেরিয়া যা আমাদের শরীরে খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে রিমুভ করতে সাহায্য করে। খাবারের মধ্যে দইয়ে প্রোবায়োটিক্স পাওয়া যায়। এছাড়াও সাপ্লিমেন্টারি হিসেবেও খেতে পারেন।

৬. ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার বা ভালো ফ্যাট যা কডলিভার তেল, অলিভ তেল, সামুদ্রিক মাছের বা মাছের তেল, বাদাম ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়, সেগুলো প্রতিদিন খেতে হবে। এতে ভিটামিন এ, ডি পাওয়া যায়।

৭. জিংক সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খেতে হবে। প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে আমরা জিংক বেশি পেয়ে থাকি। তাই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, ডিম, মিষ্টিকুমড়ার বিচি ইত্যাদি) বেশি করে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে যারা কিডনি রোগী তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।

৮. প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সেটা যেকোনভাবে হতে পারে।

৯. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন। রাতে ভালো ঘুমাতে হবে।

১০. অবশ্যই আমাদের মানসিক স্বস্তি থাকতে হবে। যেকোন রকমের দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। সবসময় মনকে হাসি খুশি রাখতে হবে।

১১. আমাদের দেশের যেকোন ধরনের মসলা জাতীয় খাবার যেমন, আদা, রসুন, লবঙ্গ, সিড (সরিষা, গোল মরিচের গুঁড়ো, চিয়া সিডস, ইত্যাদি) কালোজিরা ইত্যাদি প্রতিদিন একটু একটু করে খাওয়া।

১২. গ্রিন টি খাবেন দিনে ২ বার করে।

১৩. হাত পরিষ্কার করবেন স্যানিটাইজার দিয়ে।

আর মনে রাখতে হবে এই খাদ্যাভ্যাসগুলো প্রতিদিন মেনে চলতে হবে।