গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রায় সচেতনতাই পারে আপনাকে অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে।
আগাম সতর্কতাই সুস্থতার চাবিকাঠি
গ্রীষ্মের এই দণ্ডবায়ুর দিনে শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হওয়া অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে ‘কী খাচ্ছেন’ তার চেয়েও জরুরি হলো ‘কীভাবে নিজেকে ঠান্ডা রাখছেন’।
ডায়েটে যা রাখা জরুরি: প্রশান্তি মিলবে খাবারে
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু পানি নয়, প্রয়োজন পুষ্টিকর তরল খাবার।
ডাবের পানি ও স্যালাইন: ঘামের সাথে শরীর থেকে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের চমৎকার উৎস। অতিরিক্ত ঘাম হলে ওরস্যালাইন পান করা জরুরি।
মৌসুমি ফল: তরমুজ, শসা, বেল বা কাঁচা আমের শরবত শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে। বিশেষ করে টক দইয়ের ঘোল বা লাচ্ছি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে।
হালকা ও সহজপাচ্য খাবার: অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। পাতলা ঝোলের তরকারি, লাউ, ঝিঙা বা পটল শরীরের জন্য আরামদায়ক।
যা করবেন না: বর্জনীয় অভ্যাসসমূহ
অনেক সময় আমরা তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে এমন কিছু পান করি যা হিতে বিপরীত হতে পারে।
অতিরিক্ত চা-কফি ও কোল্ড ড্রিংকস: ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য (Dehydrate) করে তোলে। আবার অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস সাময়িক তৃপ্তি দিলেও শরীরের মেটাবলিজম নষ্ট করে।
রাস্তার ধারের খোলা শরবত: বরফ মেশানো রাস্তার ধারের শরবত থেকে জন্ডিস বা টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকে।
রোদে হুটহাট ঠান্ডা পানি: প্রচণ্ড রোদ থেকে এসেই সাথে সাথে ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা পানি পান করবেন না। এতে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে সর্দি-কাশি বা জ্বরের ঝুঁকি বাড়ে।
একনজরে জরুরি পরামর্শ
পোশাক: হালকা রঙের সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
ছাতা ও চশমা: বাইরে বেরোলে অবশ্যই ছাতা, টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
গোসল: দিনে অন্তত দুবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করার চেষ্টা করুন।
সময় নির্বাচন: খুব জরুরি কাজ না থাকলে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যাওয়াই ভালো।
“তীব্র গরমে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে এবং মাথা ঝিমঝিম করলে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। হিটস্ট্রোক কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি।” — জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু আমাদের জীবনযাত্রা অবশ্যই আমাদের হাতে। খাদ্যাভ্যাসে পরিমিতিবোধ এবং রোদে চলাফেরায় সামান্য সতর্কতা আপনাকে এই দুঃসহ গরমের অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

