ধূমপানের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায় যে খাবার



বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য ডায়েট বা খাবারই দায়ী। ল্যানসেটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনই দাবি জানিয়েছে গবেষকরা।

এছাড়াও, এই পদ্ধতিতে প্রতিদিনের যে খাদ্য তালিকা রয়েছে সেটি ধূমপানের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায়।

গবেষকরা আরও বলছেন, এই গবেষণায় কিভাবে নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাস (পুওর কোয়ালিটি) হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে বা ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

দ্যা গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজেস স্টাডি এর একটি খাদ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষণে কিভাবে বিপদজনক খাদ্যর জন্য  মানুষ মারা যাচ্ছে তার একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে-

অতিরিক্ত লবণ- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় যা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হার্টে ও রক্ত বহনকারী ধমনীর ওপর লবণের প্রভাব পড়ে সরাসরি যা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করে।

দানাদার শস্য কম খাওয়া- ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ। দানাদার শস্য জাতীয় খাবার ১২৬ গ্রামের জায়গায় ২৯ গ্রাম খাচ্ছে। যেমন, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার দিনে ২৫ গ্রাম খাওয়ার কথা বলা হলেও গড়ে মানুষ খাচ্ছে মাত্র ৩ গ্রাম। আবার দুধ খাওয়া উচিত ৪৪৩ গ্রাম অথচ মানুষ গ্রহণ করছে ৭১ গ্রাম।

ফলমূল কম খাওয়ার ফলেও প্রতি বছর সাড়া বিশ্ব তে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

এছাড়া বাদাম, বীজ, শাক-সবজী, সামুদ্রিক থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ এবং আঁশ জাতীয় খাবারের পরিমাণ কম হওয়াটাও মৃত্যুর বড় কারণগুলোর অন্যতম।

অথচ লাল মাংস ২২ গ্রাম খাওয়া উচিত হলেও সেটি খাচ্ছে ২৫ গ্রাম, লবণ ৩.২ গ্রামের ওপর খাওয়া উচিত নয় কিন্তু সেটি গ্রহণ করছে ৫ গ্রাম আর প্রক্রিয়াজাত মাংস ২.১ গ্রামের স্থানে ৫ গ্রাম।

এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী যে স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বেশি বাদ যাচ্ছে তা হলো – বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার।

গবেষকরা বলছেন,  রেড মিট বা লাল মাংস আর প্রক্রিয়াজাত করা মাংসের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক বিষয়ে সচেতন করানো হয়।  কিন্তু তা শস্য, দানাদার ও আঁশজাতীয় খাবার এবং ফলমূল কম খাওয়ার চেয়ে ঝুঁকি কম রয়েছে।

এই সকল খাদ্যাভ্যাসের কারণে মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে  বিশ্বজুড়ে। গবেষকরা তাই মনে করছেন, স্বাস্থ্য নিয়ে যারা সচেতনতা তৈরি করেন তাদের স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা বেশি বলা উচিত।