করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে পুরো পৃথিবী। বদলে গেছে চিরচেনা পৃথিবীর অনেকটাই। দূষণ কমেছে, কমেছে মানুষের চলাচল। যানবাহন কমে জাওায় কমেছে পৃথিবীর কম্পনও। এমন খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন কাজকর্ম ছেড়ে ঘরে বসে আছে। বাইরে যাচ্ছে না মানুষ। গাড়ি-ট্রেন চলছে কম। লাখ লাখ ভারি শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ। ফলে ভূপৃষ্টের ওপর চাপ কমে গেছে অনেক। কমেছে পৃথিবীর কাঁপুনিও!
পৃথিবীর কাঁপুনি যে কমে গেছে তা প্রথম লক্ষ্য করেন বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা।
তারা বলেন, ‘লকডাউনের আগের তুলনায় ১-২০ হার্জ ফ্রিকোয়েন্সিতে (বড় একটি অর্গানের আওয়াজের যে ফ্রিকোয়েন্সি) ভূপৃষ্ঠের দুলুনি এখন অনেক কম।’
পৃথিবী পৃষ্ঠের এই পরিবর্তন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে লক্ষ্য করা গেছে। প্যারিস ইন্সটিটিউট অব আর্থ ফিজিক্সের একজন গবেষক বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন নাটকীয় মাত্রায় কমে গেছে।
স্যাটেলাইটের চিত্রে দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণের পেছনে যার বড় ভূমিকা রয়েছে সেই নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এখন বাতাসে অনেক কম। কারণ বাস-ট্রাক-গাড়ি, কারখানার ধোঁয়া কমে গেছে।
ওয়াশিংটনে ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর সিসমোলজির বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ফ্রাসেটো বলেছেন, ‘এখন আপনি এমন সিগন্যাল পাচ্ছেন যাতে কোলাহল অনেক কম। ফলে সিগন্যালের ডেটা বিশ্লেষণ এখন সহজ হচ্ছে।’
পৃথিবীর কম্পন কমলেও একদম যে স্থির হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। তবে গতিবিধির এই পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
খবর: বিবিসি

