গরম আসলেই ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে যায়। শরীরের সুগন্ধ ও ঠান্ডা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় পাউডার। তবে এই পাউডার থেকেই হতে পারে ভয়াবহ ওভারিয়ান ক্যান্সার।
ভারতের বিশেষজ্ঞ ডা. ভদীপ চক্রবর্তী ওভারিয়ান ক্যান্সার সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করলে কেন ক্যান্সার হবে?
ট্যালকম পাউডারে রয়েছে ট্যাল্কে ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন এবং কিছু পরিমাণে অ্যাসবেসটস পদার্থ । এই অ্যাসবেসটস থেকেই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পাউডারের সঙ্গে ওভারিয়ান ক্যানসারের সরাসরি যোগ রয়েছে। বেশিরভাগ নামি ব্র্যান্ডের পাউডারে প্রচুর মাত্রায় স্টার্চ থাকে। যা শরীরে বিভিন্ন অংশ জমতে জমতে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
দীর্ঘ দিন শরীরের গোপন অংশে পাউডার ব্যবহার করা হলে এক সময় গিয়ে ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়।
কীভাবে বুঝবেন ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত কিনা?
যে কোনো রোগেরই লক্ষণ দেখা দেয়। ওভারিয়ান ক্যানসারের কিছু লক্ষণ যা দেখলে আপনি দেরি না ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।
অস্বাভাবিক ব্যথা :
যদি তলপেটে অস্বাভাবিক ব্যথা হয় তবে এই ব্যথা বদহজম বা পিরিয়ডের ব্যথা থেকে আলাদা। এছাড়া ব্যথা দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
কোমরের ব্যথা :
পেটে ব্যথার কারণে আপনার পিঠের নিচের অংশে অসহ্য ব্যথা হতে পারে। এটি সাধারণ কোনো ব্যথা নয়।
এ ধরনের ব্যথা হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে ভুলবেন না।
হজমের সমস্যা :
বমি বমি ভাব, গ্যাস, বুক জ্বালা ও হজমের সমস্যা এগুলো সব ওভারিয়ান ক্যানসারের লক্ষণ।
পেট ফুলে যাওয়া :
পেটে গ্যাস হলে পেট ফুলে যায়, জামাকাপড় টাইট হয়ে যেতে পারে। টিউমার বড় আকার ধারণ করার ফলে এসব সমস্যা হতে পারে।
খিদে কমে যাওয়া :
ক্যানসার হলে শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে। ফলে খাবার হজম না হওয়া, খিদে কমে যায় ও খাওয়ার রুচি হারিয়ে যায়।
খুব অল্প কাজে বেশি ক্লান্ত :
অল্প কাজে বেশি ক্লান্ত অনুভব করেন তবে বুঝতে হবে যে কোন বড় রোগের পূর্ব লক্ষণ এটি।
ঘনঘন প্রস্রাব :
ঘনঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা ওভারিনের ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ। ইউরিন ইনফেকশন হলে এটি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া:
ওভারিয়ান ক্যানসার হলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। বেশিদিন ভুগতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হঠাৎ অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়া :
ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়া হঠাৎ অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ক্যানসারে শুরুর দিকে এই লক্ষণটি দেখা দিয়ে থাকে। তাই এরকম কিছু দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
গোপনাঙ্গে রক্তপাত :
ওভারিয়ান ক্যানসার হলে গোপনাঙ্গে রক্তপাত হতে পারে। এই সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
ওভারিয়ান ক্যান্সারের ধাপসমূহ :
ধাপ ১: একটি বা উভয় ওভারিতে ক্যান্সার ছড়ানো
ধাপ ২: ওভারি থেকে তলপেটের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়া
ধাপ ৩: পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়া
ধাপ ৪: সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া
ওভারিয়ান ক্যানসারের শুরুটা হয় ওভারিকে ঢেকে রাখা টিস্যুতে। ফলে পেটের অন্যান্য অঙ্গে যেমন ব্লাডার, অ্যাবডোমিনাল লাইনিং এ তা ছড়িয়ে পড়তে পারে দ্রুত। এরপর তা ফুসফুস এবং যকৃতেও ছড়াতে পারে।
উপরের যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

