ফল এবং সবজি শরীরের পুষ্টির জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের শরীরকে সুস্থ রাখতে সবজি ও ফলের জুড়ি মেলা ভার। মজার বিষয় শুধু ফল বা সবজিই নয়, এর পাশাপাশি তার খোসাতেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান।
কিভাবে বিভিন্ন রকমের ফল এবং সবজির খোসা হয়ে উঠতে পারে আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সহায়ক, চলুন দেখে নেয়া যাক;
কলার খোসা:
কলা আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আয়রন, পটাশিয়াম ইত্যাদির জোগান দেয়। তার পাশাপাশি কলার খোসাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত কলার খোসার ভিতরের অংশ দাঁতে ঘষে কিছুক্ষণ পর ব্রাশ করলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে আপনার দাঁত হয়ে উঠবে ঝকঝকে সাদা। জুতো থেকে দাগ তুলতেও কলার খোসা ব্যাবহার করা হয়।
তাছাড়া ত্বকের যত্নেও এই খোসা অত্যন্ত উপযোগী।কলার খোসা বেটে তার সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে মাখলে মুখের কালো দাগ দূর হবে সহজে।
লেবুর খোসা:
আজকাল অনেকেই খাওয়ার পর লেবুর খোসাটি ফেলে দেন কিন্তু আজ থেকে এই অভ্যাস বাদ দিন, কারণ লেবুর খোসার রয়েছে অনেক ধরনের গুণাগুণ। এই খোসা বমি ভাব কাটাতে সাহায্য করে।
যেখানে বিভিন্ন রকমের কীটপতঙ্গের আনাগোনা সেখানে লেবুর খোসা রেখে দিন। কাজে দেবে। আলমারিতে শুকনো লেবুর খোসা রাখলে পোকামাকড়ের উপদ্রব ঠেকানো যায়।
লেবুর খোসার সঙ্গে দুধ, মধু ও ওটস মিশিয়ে একটা ফেসমাস্ক তৈরি করে ফেলুন। ত্বকে তৈলাক্ত ভাব দূর করতে এই ফেস মাস্ক খুব উপকারি।
আলুর খোসা:
আলু আমরা প্রতিদিনের সবজি হিসাবে খেয়ে থাকি। কিন্তু এর খোসাতে রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। আগেকার মানুষজন আলুর খোসাকে হালকা তেলে ভেজে এক ধরনের তরকারি করতেন। আলুর খোসায় আছে ভিটামিন সি।
শুধুমাত্র রান্নাই নয় রূপচর্চায়ও বহুকাল আগে থেকেই এই খোসার ব্যাবহার হয়ে আসছে। চোখের নীচের কালি সরাতে এর ভূমিকা বিরাট। আলুর খোসা কিছুক্ষণের জন্য ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে চোখের উপর রাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন।
আপেলের খোসা:
আপেলের খোসায় উরসলিক অ্যাসিড আছে যা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও আপেলের খোসায় ফ্লাভোনয়েডস আছে যা ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি ঘটায়।
কমলার খোসা:
কমলার খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস রয়েছে। ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি এগুলো ত্বক টানটান করে, নরম ও মসৃণ করে এবং ব্রণ দূর করে। তাই কমলা খাওয়ার পর এর খোসা ফেলে না দিয়ে সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার করুন।

