চিনিযুক্ত পানীয়তে আছে মৃত্যুর ঝুঁকি!



সম্প্রতি হার্ভাড ইউনিভার্সিটির টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ পরিচালিত এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়, চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি দিয়ে তৈরি পানীয় আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। কেননা এই খাবারের কারণে হৃদরোগ ও কয়েক ধরণের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বেশ কয়েক বছর ধরে সারা বিশ্বের কয়েক হাজার পুরুষ ও নারীর উপর এই গবেষণা চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় খাওয়ার কারণে কোন কারণ ছাড়াই তাদের আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। গবেষণা বলছে, এই পানীয় যত খাওয়া হবে মৃত্যুঝুঁকি তত বাড়বে।

গবেষক ও প্রধান লেখক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘যারা মাসে একবার এরকম চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে, তাদের তুলনায় যারা চারবার পর্যন্ত পান করে, তাদের আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি ১ শতাংশ বেড়ে গেছে। যারা সপ্তাতে ২ থেকে ছয়বার পান করে, তাদের বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর যারা প্রতিদিন এক থেকে দুইবার চিনির পানীয় খায়, তাদের বেড়েছে ১৪ শতাংশ।’

‘যারা প্রতিদিন দুইবারের বেশি এরকম চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে, তাদের আগাম মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়েছে ২১ শতাংশ।’

সারাবিশ্বে কোমল পানীয় খাওয়ার হাড়:

বিশ্বব্যাপী কোমল পানীয় পানের প্রবণতা বাড়ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমিটার বলছে, বিশ্বে কোমল পানীয় পানের হাড় পাঁচ বছর আগে ছিল ৮৪.১ লিটার যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯১.১ লিটারে।

হার্ভার্ডের গবেষকরা বলছেন, ডায়েট কোমল পানীয় খাওয়া কিছুটা কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে কোমল পানীয়ের বাজারে তাদের অংশ খুবই কম। এরকম পানীয় পানের হার বছরে জনপ্রতি মাত্র ৩.১ লিটার। দেখা গেছে, বিশ্বে এখন কোমল পানীয় পানের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে চীন।

বছরে দেশটির একেকজন নাগরিক এজাতীয় পানীয় গ্রহণ করে ৪১০.৭ লিটার। এরপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (৩৫৬.৮ লিটার), স্পেন (২৬৭.৫ লিটার), সৌদি আরব (২৫৮.৪ লিটার), আর্জেন্টিনা (২৫০.৪ লিটার)। এই পরিসংখ্যান হিসাবে চীনে একজন বাসিন্দার গড় কোমল পানীয় পানের হার প্রতিদিন এক লিটারেরও বেশি।

ক্যালোরির হিসেব:

চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, একজন আমেরিকান প্রতিদিন চিনিযুক্ত পানীয় থেকে ১৫৭ ক্যালোরি গ্রহণ করে-যেটি এক ক্যান কোমল পানীয়ের চেয়ে একটু বেশি।

কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৩০ মিলিলিটারের এক ক্যান কোকা-কোলায় ৩৫ গ্রাম চিনি রয়েছে, যা সাত চা চামচ চিনির সমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হলো, প্রতিদিন ৫০ গ্রামের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়।

হার্ভাডের পুষ্টিবিজ্ঞান বিষয়ক অধ্যাপক বলেছেন, ‘এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, শিশু ও তরুণদের কাছে চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রচার সীমিত করা উচিত, সেই সঙ্গে সোডা জাতীয় পণ্যের ওপর কর বসানো উচিত। কারণ এ জাতীয় চিনির পানীয় খাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে যেসব রোগের শিকার হতে চিকিৎসা ব্যয় হয়, বর্তমান কোমল পানীয়ের মূল্য থেকে সেই খরচ আসছে না।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি বড় উদ্বেগ হলো যে, এই জাতীয় চিনিযুক্ত কোমল পানীয় প্রভাব শিশু এবং তরুণদের ওপর যেসব প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে স্থূলতার হার ১৯৭৫ সালেও ছিল ১১ মিলিয়ন, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৪ মিলিয়ন।

সাম্প্রতিক এই গবেষণায় বলা হচ্ছে, অতিরিক্তি কোমল পানীয় পান করলে তার ভয়াবহতা অনেক বেশি হবে।