গতকাল যা অবাস্তব ছিল আজ আমাদের কাছে তা অনেক বাস্তব । অনেক কল্পনাকেও আজ মানুষ বাস্তবে নিয়ে আসতে পেরেছে শুধুমাত্র বিজ্ঞানের কল্যানেই ।
একবার ভাবুন তো এই কিছু বছর আগেও বাড়িতে কাঁসার প্লেট গ্লাস হাঁড়ি পাতিল ইত্যাদি দেখা যেতো , কিংবা গ্রামে প্রায় সব বাড়িতেই মাটির হাঁড়ি পাতিল ব্যবহার হত , যার সব কিছুই আজ অতীত।
আগামী প্রজন্ম হয়তো রেফ্রিজারেটরে মাছ পাওয়া যায় এমন ধারণার মতো মাটির জিনিস শুধুমাত্র শোভা বর্ধক হিসেবেই মনে করবে ।
যাই হোক দিন বদলে গেছে সব কিছুতে এসেছে প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়া। আর সেই প্রযুক্তির কল্যাণে বাঁশ থেকেই তৈরি হচ্ছে বিস্ময়কর তৈজসপত্র
আজকাল সবাই চায় একটু আরাম একটু ঝামেলা মুক্ত জীবন। তাই বিয়েবাড়ি , উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা নিত্য দিনের তৈজসপত্র ধোয়াও এক ক্লান্তিকর ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সময় বাচাতে আপনিও ব্যবহার করতে পারেন বাঁশের তৈরি ওয়ান টাইম তৈজসপত্র।
আমাদের দেশে বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের তৈজসপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো পরিবেশ বান্ধব নয়। তাই বাঁশ দিয়ে এখন নতুন ধাঁচের কাপ, চামচ, প্লেট তৈরি করা হচ্ছে যা পরিবেশের জন্য মোটেই ক্ষতির কারণ নয়।
এই তৈজসপত্রগুলোর রয়েছে নানা ডিজাইন। এর কোনোটি গোল, কোনটি চারকোনা, আবার কোনোটার চারপাশে সামান্য খাঁজকাটা। একেবারে ছোট থেকে শুরু করে মাঝারি কিংবা বড় আকৃতির প্লেটগুলো পাওয়া যায়।অতিথি আপ্যায়নে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি নান্দনিকতার পরিচয় দিতে চাইলে আপনিও ব্যবহার করতে পারেন বাঁশের তৈরি হালকা এই তৈজসপত্র।
এছাড়া শক্ত কাগজ দিয়েও বর্তমানে লাল, নীল, সবুজ বিভিন্ন রঙের এই প্লেট ও চামচ তৈরি করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন উৎসব কে কেন্দ্র করে এদের দিজাইনেও আছে ভিন্নতা জন্মদিন থেকে শুরু করে নানা উৎসবের কথা মাথায় রেখে প্লেটগুলোতে আঁকা হয়েছে বিভিন্ন ছবি। কোনোটায় ডিজনি চরিত্র, আবার কোনোটায় রয়েছে ডোরেমন, প্রিন্সেস, প্রজাপতি, মিকি মাউস আঁকা। আবার হ্যাপি বার্থডে পার্টি লেখাও রয়েছে এগুলোতে। এর সবচেয়ে সুবিধা হলো, এতে খাবার দীর্ঘ সময় থাকলেও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হয় না। ফেলে দেওয়ার পরও পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না।
যেখানে পাবেন ও দরদাম
বিভিন্ন সুপার শপ গুলোতে বিশেষ করে মীনা বাজার, আগোরা, মোস্তাফা মার্ট, , ল্যাভেন্ডার, সিঙ্গাপুর মার্কেট, নিউমার্কেট , গুলশান এক নম্বর মার্কেট,প্রভৃতি জায়গায় পাওয়া যাবে এই প্লেট ও চামচ। চাইলে ঘরে বসে অনলাইন থেকেও বেছে নিতে পারেন।
সেট হিসাবে চামচ ৩০ থেকে ৮০ টাকা, প্লেট ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কনটেইনার ৪০ থেকে ৯২ টাকা এবং গ্লাস পড়বে ৩০ টাকা। এ ছাড়া কাঠ, আখের তৈরি প্লেট, চামচ এবং কনটেইনার পাবেন ৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।

