পরিপক্কতার সাথে সাথে সবুজ রং বদলায় ক্যাপ্সিকাম, পুষ্টিতে আছে পার্থক্য


bell peppers-Capsicum @paperslife

ক্যাপ্সিকাম অনেক রংয়ের, কারণ ভিন্ন জাত নয়, মূলত পরিপক্কতার নানান পর্যায় সবুজ রংয়ের ক্যাপ্সিকাম বিভিন্ন রংয়ে বদলে যায়। অর্থ্যাৎ ক্যাপ্সিকামের লাল, হলুদ ও কমলা রং আসলে সুবজেরই পরিপক্ক রূপ।

তবে মজার বিষয় হচ্ছে, ক্যাপ্সিকামের, হলুদ কিংবা লাল- রং ভেদে ক্যাপ্সিকামের পুষ্টিগুণেরও পার্থক্য রয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে লাল, হলুদ ও কমলা রংয়ের ক্যাপ্সিকাম সবুজের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর।

গবেষণা অনুযায়ী, সব ধরনের ক্যাপ্সিকামের স্বাস্থ্যগুণে আছে;

১) ক্যাপ্সিকাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা শরীরে ফাইটোকেমিকেল চক্রে সাহায্য করে।

২) ক্যাপ্সিকামের ভিটামিন কোষে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রভাব ঘটিয়ে কোষ-কলা সুস্থ রাখে এবং বলিরেখা ধীর করে।

৩) হৃদরোগ প্রতিকারে সাহায্য পাশাপাশি হাড়ের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে ক্যাপ্সিকাম।

৪) ক্যাপ্সিকাম নারীদের রজোঃনিবৃত্তি’র সময়ে বিভিন্ন অসুবিধা দূর করতে সাহায্য করে।

৫) ডিএনএ’য়ের ক্ষয়ের বিরুদ্ধে কোষ রক্ষা ও কোষ মেরামত করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিকারক, মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত, অক্সিডেটিভ চাপ, শিশুর হাঁপানি এবং ক্যান্সার দূরে রাখতে সাহায্য করে।

আসুন জেনে যাক, ভিন্ন রংয়ের ক্যাপ্সিকামে কি কি ভিন্ন গুণ আছে;

সবুজ ক্যাপ্সিকাম: পুষ্টি-বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ ক্যাপ্সিকাম পরিপক্ক হওয়ার আগের তুলে ফেলা হয়। এটা খানিকটা কষ-জাতীয় এবং কচকচে হয়ে থাকে। এটা লাল, হলুদ বা কমলার মতো মিষ্টি নয়।

হলুদ ক্যাপ্সিকাম: সবুজ ক্যাপ্সিকামের চেয়ে বেশি পরিপক্ক অবস্থা। এর স্বাদ কমলা ও লাল রংয়ের ক্যাপ্সিকামের মাঝামাঝি।

কমলা ক্যাপ্সিকাম: মিষ্টি তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটার স্বাদ লাল ক্যাপ্সিকামের চেয়ে কম। প্রধানত সালাদ বা এশীয় খাবার পরিবেশনে ব্যবহৃত হয়।

লাল ক্যাপ্সিকাম: লাল রংয়ের ক্যাপ্সিকাম পরিপক্ক, উজ্জ্বল লাল রং ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত। এটা উচ্চ ‘ক্যারোটিনয়েড ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস’ এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এতে সবুজ ক্যাপ্সিকামের চেয়ে প্রায় ১১ গুণ বেশি বেটা-ক্যারোটিন থেকে।